ডাইরির ছেঁড়া পাতা - ২১
আমার প্রাত্যহিকতার মধ্যে শনি বা রবিবারকে আলাদা করে কিছু ধরা যায় না। কাজেই রবিবার ছুটির দিন পেয়ে যারা দুপুরে খেয়ে-দেয়ে বিছানায় গড়িয়ে নেন, সেই দলভুক্ত আমি মোটেও নই। তবু আজ দীর্ঘদিন বাদে বিকেলের দিকে স্নান সেরে বিছানায় গড়িয়ে নেবার বাসনায় যখন ঘন্টা দুই ঘুমিয়ে উঠলাম, তখন একটা অদ্ভুত আলসেমি সারা শরীরে। বাড়ি নীরব কারণ ছেলে গিয়েছে তার বন্ধুর বাড়ি খেলতে। সেখান থেকে সে রাতের খাওয়া সেরে ফিরবে। চা খেতে খেতে ভেবে দেখলাম যে একটা গল্পের বই পড়া যেতে পারে। বাইরে চমৎকার আবহাওয়া, আশেপাশের বাচ্চারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে খেলছে। তাদের হৈ চৈ কানে আসছে। এই মূহুর্তে হাতে আছে বুদ্ধদেব গুহ'র লেখা "প্রথম প্রবাস"।
উল্টেপাল্টে দেখে যেটুকু বুঝলাম তাতে গল্পটিকে কৌতুকমিশ্রিত ভ্রমণকাহিনী বলা যেতে পারে। এতে লেখক শুধু যে প্রথমবার দেশের বাইরে বেরিয়েছেন তা নয়, প্রথমবার বিমানেও চড়েছেন। বহুবছর আগের যে অভিজ্ঞতা এটি - সে কথা লেখকের বয়েস হিসেব না করেই বোঝা যাচ্ছে কারণ এক আমেরিকান ডলারের বিনিময় মূল্য তখন ভারতীয় টাকায় আট অর্থাৎ আটটি টাকা গুনে দিলে তবেই মিলত একটি ডলার। এখন প্রায় পঞ্চাশ টাকার পরিবর্তে তবেই মেলে এক ডলার।
প্রথমবার দেশের বাইরে ভ্রমণ বিশেষকরে যারা বড় হয়ে একা দেশের বাইরে গিয়েছেন তাদের এ নিয়ে লিখতে বা বলতে বললে বেশীরভাগ মানুষই সাধ্যমত কৌতুকের ছটায় সে বর্ণনাকে রাঙিয়ে তুলবেন। এর কারণ সেদিন প্রায় সবাই নিজের পরিচিত জগতের বাইরে বেরিয়ে আড়ষ্ট এবং কিছুটা ভীত ছিলেন - পেছন ফিরে যাকে দেখলে আজ হাসি আসতেই পারে। আর্ন্তজালের দৌলতে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় আনার সক্ষমতার দাবী জানানো আজকের অতি সপ্রতিভ ভারতীয় তরুণমহলের ক্ষেত্রে সে ভয় বা আড়ষ্টতা কম হলেও একেবারে থাকবে না এমনটি নয়।
বইটা পড়তে পড়তে আমার নিজের একটা টাইমমেশিনে যাত্রা হচ্ছিল। এ লেখার অনেক বিষ্ময়, আনন্দের অনুভূতির মধ্যে দিয়ে আমি বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম প্রায় কুড়ি বছর আগের জুলাই মাসের একটা দিনে - যেদিন আমিও প্রথম দেশের বাইরে এসেছিলাম, সেও ছিল আমার প্রথম উড়ান। {আরো আছে}
আমার প্রাত্যহিকতার মধ্যে শনি বা রবিবারকে আলাদা করে কিছু ধরা যায় না। কাজেই রবিবার ছুটির দিন পেয়ে যারা দুপুরে খেয়ে-দেয়ে বিছানায় গড়িয়ে নেন, সেই দলভুক্ত আমি মোটেও নই। তবু আজ দীর্ঘদিন বাদে বিকেলের দিকে স্নান সেরে বিছানায় গড়িয়ে নেবার বাসনায় যখন ঘন্টা দুই ঘুমিয়ে উঠলাম, তখন একটা অদ্ভুত আলসেমি সারা শরীরে। বাড়ি নীরব কারণ ছেলে গিয়েছে তার বন্ধুর বাড়ি খেলতে। সেখান থেকে সে রাতের খাওয়া সেরে ফিরবে। চা খেতে খেতে ভেবে দেখলাম যে একটা গল্পের বই পড়া যেতে পারে। বাইরে চমৎকার আবহাওয়া, আশেপাশের বাচ্চারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে খেলছে। তাদের হৈ চৈ কানে আসছে। এই মূহুর্তে হাতে আছে বুদ্ধদেব গুহ'র লেখা "প্রথম প্রবাস"।
উল্টেপাল্টে দেখে যেটুকু বুঝলাম তাতে গল্পটিকে কৌতুকমিশ্রিত ভ্রমণকাহিনী বলা যেতে পারে। এতে লেখক শুধু যে প্রথমবার দেশের বাইরে বেরিয়েছেন তা নয়, প্রথমবার বিমানেও চড়েছেন। বহুবছর আগের যে অভিজ্ঞতা এটি - সে কথা লেখকের বয়েস হিসেব না করেই বোঝা যাচ্ছে কারণ এক আমেরিকান ডলারের বিনিময় মূল্য তখন ভারতীয় টাকায় আট অর্থাৎ আটটি টাকা গুনে দিলে তবেই মিলত একটি ডলার। এখন প্রায় পঞ্চাশ টাকার পরিবর্তে তবেই মেলে এক ডলার।
প্রথমবার দেশের বাইরে ভ্রমণ বিশেষকরে যারা বড় হয়ে একা দেশের বাইরে গিয়েছেন তাদের এ নিয়ে লিখতে বা বলতে বললে বেশীরভাগ মানুষই সাধ্যমত কৌতুকের ছটায় সে বর্ণনাকে রাঙিয়ে তুলবেন। এর কারণ সেদিন প্রায় সবাই নিজের পরিচিত জগতের বাইরে বেরিয়ে আড়ষ্ট এবং কিছুটা ভীত ছিলেন - পেছন ফিরে যাকে দেখলে আজ হাসি আসতেই পারে। আর্ন্তজালের দৌলতে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় আনার সক্ষমতার দাবী জানানো আজকের অতি সপ্রতিভ ভারতীয় তরুণমহলের ক্ষেত্রে সে ভয় বা আড়ষ্টতা কম হলেও একেবারে থাকবে না এমনটি নয়।
বইটা পড়তে পড়তে আমার নিজের একটা টাইমমেশিনে যাত্রা হচ্ছিল। এ লেখার অনেক বিষ্ময়, আনন্দের অনুভূতির মধ্যে দিয়ে আমি বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম প্রায় কুড়ি বছর আগের জুলাই মাসের একটা দিনে - যেদিন আমিও প্রথম দেশের বাইরে এসেছিলাম, সেও ছিল আমার প্রথম উড়ান। {আরো আছে}
No comments:
Post a Comment