Sunday, April 28, 2013
Thursday, April 25, 2013
Thursday, March 7, 2013
নিয়ন মন - ১
ক্যালকাটা কফি ডে বা সিসিডি কলকাতার আধুনিক মানুষদের কাছে পরিচিত নাম হলেও আমার কাছে তেমনটা নয়। তাই সৌম্য-দা যখন ফোনে বলল "চলে আয় সিসিডিতে...." তখন সেই জায়গাটা সম্বন্ধে স্রেফ কল্পনা ছাড়া আর কিছু আমার ছিল না। সৌম্য-দার কাছ থেকে অবস্থান জেনে নিয়ে বুঝলাম যে সেটা গোলপার্কে, মৌচাকের কাছেই এবং গোলপার্ক পোষ্টঅফিসের উল্টোদিকে। ও রাস্তার নাম বালিগঞ্জ গার্ডেনস, পাশ দিয়ে হেঁটে আমি নিশ্চয় গিয়েছি - তবে চোখে পড়েনি। সৌম্য-দার সাথে সামান্য পরিচয় ইনটারনেটে, স্যাক্সোফোন বাজান এবং পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রতি একটা আকর্ষণ আছে। জ্ঞান বা পারদর্শীতা বিরাট কিছু না থাকলেও পাশ্চাত্য সঙ্গীত বা স্যাক্সোফোন নিয়ে তিনি কথা বলতে ভালোবাসেন।
কলকাতায় গেলেই আমার দৈনন্দিন রুটিনটা বদলে যায় এবং হাতে প্রচূর সময় থাকে। এক রবিবারের সকালে যখন এরকমভাবেই হাতে কোনো কাজ নেই তখন সৌম্য-দার ফোন, "কি করছিস?" এবং তারপরেই সিসিডিতে যাবার ডাক। দীর্ঘসময়বাদে সকালে রুটি, আলুর তরকারী, গলদা চিংড়ির কালিয়া আর মিষ্টি খেয়ে মন তখন ফুরফুরে কাজেই সৌম্য-দার ডাকে খুশী মনে সাড়া দিলাম। সিসিডিতে গিয়ে দেখি অল্পস্বল্প খাওয়া এবং আড্ডা মারার জন্য বেশ ছিমছাম আধুনিক জায়গা। সোফাতে আরাম করে বসে সামনের সেন্টার টেবিলে খাবার নিয়ে দিব্যি গল্প করা যায়, এককোণে টিভি ও দেখা যায়। বেশ কিছু অল্পবয়েসী ছেলেমেয়েরা কিচিরমিচির করছে একপাশে।
সৌম্য-দা পারিষদবর্গ পছন্দ করেন সে আমি জানতাম, গিয়ে দেখলাম তার দুপাশে দুজন বসে আছেন। সৌম্য-দার দলবলের অনেকের সাথেই আমার পরিচয় আছে, সেই হিসেবে তাদের সাথেও আমার পরিচয় ছিল। বলা বাহুল্য কফি ও স্যান্ডুইচ খাওয়া চলছে। আমি যেতেই সৌম্য-দা আমার জন্য কি অর্ডার দেবে জানতে চাইলে আমি জানালাম যে আসার আগেই মায়ের বানানো খাবার খেয়ে এসেছি। কি কি খেয়েছি সেটাও জানালাম। পারিষদবর্গের দিকে না তাকালেও অনুভব করলাম তাদের বিষ্ময়ে ভরা চোখ। সম্যক অর্থে সেটাই স্বাভাবিক। কলকাতার বহু আধুনিক মানুষেরা যখন সকালে রুটি তরকারী খাওয়া বিসর্জন দিয়ে ফেলেছেন, সেখানে আমি অর্থাৎ কুড়ি বছরের এন.আর.আই এরকম খাবার তৃপ্তি করে খাচ্ছে - এটা শুনে চোখ রাজভোগ হওয়াই স্বাভাবিক! এ পৃথিবীর বহু আধুনিক মানুষের কাছেই আধুনিকতার সংজ্ঞা বাজারে যা চলছে সেই স্রোতে গা ভাসানো। হাওয়া যেদিকে সেদিকে নৌকো চালাতে গেলে পরিশ্রম কম, হাওয়া ই নৌকোকে টেনে নিয়ে যাবে। উল্টো দিকে নৌকো চালাতে পরিশ্রম বড়, তাছাড়া সে ক্ষমতা নাও থাকতে পারে।
এইসব আসরগুলোতে যা ঘটে সেটা হল অচেনা কোনো মানুষকে অল্প সময়েই চেনার চেষ্টা বা অন্য অর্থে তাকে মাপার চেষ্টা। সৌম্য-দা কথায় কথায় বললেন ক্যালিফোর্নিয়ার কোন ইউনিভার্সিটির সঙ্গীতবিভাগের কোনো অধ্যাপকের সাথে তার পরিচয়, ইমেল আদান-প্রদান আছে, প্রশ্ন আমি তাকে চিনি কিনা। ঘাড় নেড়ে বিষ্ময়টাকে গিলে ফেলতে হল কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্ব আমার থেকে কয়েক হাজার মাইল, সঙ্গীত নিয়ে পড়া বা পড়ানো কিছুই আমার কখনো ঘটেনি কাজেই আমি আমেরিকায় থাকি এবং সামান্য পিয়ানো বাজাই মানেই সঙ্গীতের কোনো অধ্যাপককে চিনতে পারি এমনটা প্রায় অসম্ভব।
যান্ত্রিকযুগে সফল ও হিসেবী জীবন কাটাতে কাটাতে মানুষের মধ্যে যে ভয়ানক অসুখটার সৃষ্টি হয়েছে - যা তাকে কুরে কুরে খায় অথচ বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যায় না - তার নাম একাকিত্ব। এই একাকিত্বের বোঝায় দিশেহারা বহু মানুষের কথা বলতে খুব ইচ্ছে করে, কিন্তু কোন ছাইপাঁশ মুখ থেকে বেরোচ্ছে সে খেয়াল থাকে না, সম্পর্ক তৈরী করতে ইচ্ছে করে কিন্তু তার মন যে সে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে সেই বোধটা থাকে না।
অনুষ্কা শঙ্করের প্রোগ্রাম তখন সবে হয়েছে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে। সৌম্য-দা গিয়েছিলেন এটা জানার পর প্রোগ্রাম কেমন লেগেছে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন যে "পাতে দেওয়ার মত হয় নি এখনো অনুষ্কা"। সেতারবাদন বুঝতে এই বাদ্যযন্ত্র এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে বুঝতে হবে - এটাই আমি বুঝি। যতদূর জানি সৌম্য-দা স্যাক্সোফোনের বাইরে অন্য কোনো যন্ত্র বাজাতে জানেন না। কাজেই সেতারবাদন শুনে তিনি এরকম বিজ্ঞ মন্তব্য করলেন এটা নিয়ে প্রশ্ন করাটা বাতুলতা কারণ কথা বলার স্বাধীনতা সবার আছে। তাছাড়া আধুনিকতার সাথে সবজান্তাভাব বা শো-অফ নামের শব্দটা এখন ওতপ্রোতভাবে মিশে গিয়েছে।
এই মাপামাপির আসরে ঠিকঠাক কথা বলাটা একটা বড় গুণ কারণ স্বত:স্ফুর্তভাবে যা বলবো তাই দিয়েই হয়ত আমায় মাপা হবে। মহানগর তার ধূলো-ধোঁয়া মিশিয়ে দিয়েছে বাসিন্দাদের মনেও। ধোঁয়ায় যেমন চোখ জ্বালা করতে থাকে, তেমন ধোঁয়াটে মনের সান্নিধ্যে এলেই মন নিস্তব্ধ হতে থাকে। আরো এলোমেলো কিছু কথোপকথন চলতে থাকে, সব কথার মধ্যেই তূলনা ও প্রতিযোগীতার ঝাঁঝালো গন্ধ।
গাড়ির প্রতি আমার তেমন কোনো আগ্রহ নেই জানাতে সৌম্য-দার চোখ কপালে। আমেরিকায় কোনোদিন না এসেও ওনার জানা আছে যে এদেশে গাড়ির প্রতি মানুষের অসীম আগ্রহের কথা। আমার বাড়িতে কি কি গাড়ি আছে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে ভাবতে হল কারণ গাড়িদের আমি তেমন মন দিয়ে দেখি নি। হোন্ডা সিভিক এখন ভারতেও পাওয়া যায় এবং ভারতে এখন খুব ভালো ভালো গাড়ি পাওয়া যায় এই নিয়ে সৌম্য-দা একটা বক্তৃতা ই দিয়ে ফেলল যদিও আমি শুনতে চাইনি। আমাদের সেই হোন্ডা সিভিক টা অটোমেটিক না ম্যানুয়াল এটার উত্তরে অটোমেটিক বলতে সৌম্য-দা জানালো তার গাড়িটা ম্যানুয়াল। তার অবশ্য এটা চালাতেই বেশী ভালো লাগে যদিও অটোমেটিকের দাম বেশী। দ্বিতীয় গাড়িটা সুবারু এস ইউ ভি, অতবড় গাড়ি কেন কিনেছি এর প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় আমি তো আর কিনি নি। কিন্তু বাড়িতে আছে যখন তখন সেই "কেন" বলার দায় বা দায়বদ্ধতা থেকে জানালাম ওটাতে অ্যান্টিলক ব্রেক আছে, বরফে ওটা চালাতে সুবিধে।
কথাবার্তা এখন যে দিকে চলছে সেটা হল আমার ঠিক কি আছে আর কি নেই। আমার নাগরিকত্ব কোন দেশের এ প্রশ্নের উত্তরে অ্যামেরিকান বললে সৌম্য-দা জানান যে সেটা খুব ভালো, অ্যামেরিকান নাগরিকত্ব এখন সবথেকে শক্তিশালী। ঠিক কোনদিকে শক্তিশালী এই নিয়ে জানার ইচ্ছে হলেও আমার মন তখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। দোকানে যাবো এই কথা বলে বিদায় নেই। সৌম্য-দা অবশ্য তার গাড়িতে করে দিয়ে আসতে চায়। "দোকান কাছে, হেঁটেই চলে যেতে পারবো", এ কথা বলে বেরিয়ে পড়ি। আধুনিক সিসিডির বাইরে এসে নি:শ্বাস নেই, সানগ্লাস বার করে চোখ ঢাকি - "আবার এরা ঘিরেছে মোর মন....আবার চোখে নামে আবরণ..." ।।
ক্যালকাটা কফি ডে বা সিসিডি কলকাতার আধুনিক মানুষদের কাছে পরিচিত নাম হলেও আমার কাছে তেমনটা নয়। তাই সৌম্য-দা যখন ফোনে বলল "চলে আয় সিসিডিতে...." তখন সেই জায়গাটা সম্বন্ধে স্রেফ কল্পনা ছাড়া আর কিছু আমার ছিল না। সৌম্য-দার কাছ থেকে অবস্থান জেনে নিয়ে বুঝলাম যে সেটা গোলপার্কে, মৌচাকের কাছেই এবং গোলপার্ক পোষ্টঅফিসের উল্টোদিকে। ও রাস্তার নাম বালিগঞ্জ গার্ডেনস, পাশ দিয়ে হেঁটে আমি নিশ্চয় গিয়েছি - তবে চোখে পড়েনি। সৌম্য-দার সাথে সামান্য পরিচয় ইনটারনেটে, স্যাক্সোফোন বাজান এবং পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রতি একটা আকর্ষণ আছে। জ্ঞান বা পারদর্শীতা বিরাট কিছু না থাকলেও পাশ্চাত্য সঙ্গীত বা স্যাক্সোফোন নিয়ে তিনি কথা বলতে ভালোবাসেন।
কলকাতায় গেলেই আমার দৈনন্দিন রুটিনটা বদলে যায় এবং হাতে প্রচূর সময় থাকে। এক রবিবারের সকালে যখন এরকমভাবেই হাতে কোনো কাজ নেই তখন সৌম্য-দার ফোন, "কি করছিস?" এবং তারপরেই সিসিডিতে যাবার ডাক। দীর্ঘসময়বাদে সকালে রুটি, আলুর তরকারী, গলদা চিংড়ির কালিয়া আর মিষ্টি খেয়ে মন তখন ফুরফুরে কাজেই সৌম্য-দার ডাকে খুশী মনে সাড়া দিলাম। সিসিডিতে গিয়ে দেখি অল্পস্বল্প খাওয়া এবং আড্ডা মারার জন্য বেশ ছিমছাম আধুনিক জায়গা। সোফাতে আরাম করে বসে সামনের সেন্টার টেবিলে খাবার নিয়ে দিব্যি গল্প করা যায়, এককোণে টিভি ও দেখা যায়। বেশ কিছু অল্পবয়েসী ছেলেমেয়েরা কিচিরমিচির করছে একপাশে।
সৌম্য-দা পারিষদবর্গ পছন্দ করেন সে আমি জানতাম, গিয়ে দেখলাম তার দুপাশে দুজন বসে আছেন। সৌম্য-দার দলবলের অনেকের সাথেই আমার পরিচয় আছে, সেই হিসেবে তাদের সাথেও আমার পরিচয় ছিল। বলা বাহুল্য কফি ও স্যান্ডুইচ খাওয়া চলছে। আমি যেতেই সৌম্য-দা আমার জন্য কি অর্ডার দেবে জানতে চাইলে আমি জানালাম যে আসার আগেই মায়ের বানানো খাবার খেয়ে এসেছি। কি কি খেয়েছি সেটাও জানালাম। পারিষদবর্গের দিকে না তাকালেও অনুভব করলাম তাদের বিষ্ময়ে ভরা চোখ। সম্যক অর্থে সেটাই স্বাভাবিক। কলকাতার বহু আধুনিক মানুষেরা যখন সকালে রুটি তরকারী খাওয়া বিসর্জন দিয়ে ফেলেছেন, সেখানে আমি অর্থাৎ কুড়ি বছরের এন.আর.আই এরকম খাবার তৃপ্তি করে খাচ্ছে - এটা শুনে চোখ রাজভোগ হওয়াই স্বাভাবিক! এ পৃথিবীর বহু আধুনিক মানুষের কাছেই আধুনিকতার সংজ্ঞা বাজারে যা চলছে সেই স্রোতে গা ভাসানো। হাওয়া যেদিকে সেদিকে নৌকো চালাতে গেলে পরিশ্রম কম, হাওয়া ই নৌকোকে টেনে নিয়ে যাবে। উল্টো দিকে নৌকো চালাতে পরিশ্রম বড়, তাছাড়া সে ক্ষমতা নাও থাকতে পারে।
এইসব আসরগুলোতে যা ঘটে সেটা হল অচেনা কোনো মানুষকে অল্প সময়েই চেনার চেষ্টা বা অন্য অর্থে তাকে মাপার চেষ্টা। সৌম্য-দা কথায় কথায় বললেন ক্যালিফোর্নিয়ার কোন ইউনিভার্সিটির সঙ্গীতবিভাগের কোনো অধ্যাপকের সাথে তার পরিচয়, ইমেল আদান-প্রদান আছে, প্রশ্ন আমি তাকে চিনি কিনা। ঘাড় নেড়ে বিষ্ময়টাকে গিলে ফেলতে হল কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্ব আমার থেকে কয়েক হাজার মাইল, সঙ্গীত নিয়ে পড়া বা পড়ানো কিছুই আমার কখনো ঘটেনি কাজেই আমি আমেরিকায় থাকি এবং সামান্য পিয়ানো বাজাই মানেই সঙ্গীতের কোনো অধ্যাপককে চিনতে পারি এমনটা প্রায় অসম্ভব।
যান্ত্রিকযুগে সফল ও হিসেবী জীবন কাটাতে কাটাতে মানুষের মধ্যে যে ভয়ানক অসুখটার সৃষ্টি হয়েছে - যা তাকে কুরে কুরে খায় অথচ বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যায় না - তার নাম একাকিত্ব। এই একাকিত্বের বোঝায় দিশেহারা বহু মানুষের কথা বলতে খুব ইচ্ছে করে, কিন্তু কোন ছাইপাঁশ মুখ থেকে বেরোচ্ছে সে খেয়াল থাকে না, সম্পর্ক তৈরী করতে ইচ্ছে করে কিন্তু তার মন যে সে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে সেই বোধটা থাকে না।
অনুষ্কা শঙ্করের প্রোগ্রাম তখন সবে হয়েছে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে। সৌম্য-দা গিয়েছিলেন এটা জানার পর প্রোগ্রাম কেমন লেগেছে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন যে "পাতে দেওয়ার মত হয় নি এখনো অনুষ্কা"। সেতারবাদন বুঝতে এই বাদ্যযন্ত্র এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে বুঝতে হবে - এটাই আমি বুঝি। যতদূর জানি সৌম্য-দা স্যাক্সোফোনের বাইরে অন্য কোনো যন্ত্র বাজাতে জানেন না। কাজেই সেতারবাদন শুনে তিনি এরকম বিজ্ঞ মন্তব্য করলেন এটা নিয়ে প্রশ্ন করাটা বাতুলতা কারণ কথা বলার স্বাধীনতা সবার আছে। তাছাড়া আধুনিকতার সাথে সবজান্তাভাব বা শো-অফ নামের শব্দটা এখন ওতপ্রোতভাবে মিশে গিয়েছে।
এই মাপামাপির আসরে ঠিকঠাক কথা বলাটা একটা বড় গুণ কারণ স্বত:স্ফুর্তভাবে যা বলবো তাই দিয়েই হয়ত আমায় মাপা হবে। মহানগর তার ধূলো-ধোঁয়া মিশিয়ে দিয়েছে বাসিন্দাদের মনেও। ধোঁয়ায় যেমন চোখ জ্বালা করতে থাকে, তেমন ধোঁয়াটে মনের সান্নিধ্যে এলেই মন নিস্তব্ধ হতে থাকে। আরো এলোমেলো কিছু কথোপকথন চলতে থাকে, সব কথার মধ্যেই তূলনা ও প্রতিযোগীতার ঝাঁঝালো গন্ধ।
গাড়ির প্রতি আমার তেমন কোনো আগ্রহ নেই জানাতে সৌম্য-দার চোখ কপালে। আমেরিকায় কোনোদিন না এসেও ওনার জানা আছে যে এদেশে গাড়ির প্রতি মানুষের অসীম আগ্রহের কথা। আমার বাড়িতে কি কি গাড়ি আছে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে ভাবতে হল কারণ গাড়িদের আমি তেমন মন দিয়ে দেখি নি। হোন্ডা সিভিক এখন ভারতেও পাওয়া যায় এবং ভারতে এখন খুব ভালো ভালো গাড়ি পাওয়া যায় এই নিয়ে সৌম্য-দা একটা বক্তৃতা ই দিয়ে ফেলল যদিও আমি শুনতে চাইনি। আমাদের সেই হোন্ডা সিভিক টা অটোমেটিক না ম্যানুয়াল এটার উত্তরে অটোমেটিক বলতে সৌম্য-দা জানালো তার গাড়িটা ম্যানুয়াল। তার অবশ্য এটা চালাতেই বেশী ভালো লাগে যদিও অটোমেটিকের দাম বেশী। দ্বিতীয় গাড়িটা সুবারু এস ইউ ভি, অতবড় গাড়ি কেন কিনেছি এর প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় আমি তো আর কিনি নি। কিন্তু বাড়িতে আছে যখন তখন সেই "কেন" বলার দায় বা দায়বদ্ধতা থেকে জানালাম ওটাতে অ্যান্টিলক ব্রেক আছে, বরফে ওটা চালাতে সুবিধে।
কথাবার্তা এখন যে দিকে চলছে সেটা হল আমার ঠিক কি আছে আর কি নেই। আমার নাগরিকত্ব কোন দেশের এ প্রশ্নের উত্তরে অ্যামেরিকান বললে সৌম্য-দা জানান যে সেটা খুব ভালো, অ্যামেরিকান নাগরিকত্ব এখন সবথেকে শক্তিশালী। ঠিক কোনদিকে শক্তিশালী এই নিয়ে জানার ইচ্ছে হলেও আমার মন তখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। দোকানে যাবো এই কথা বলে বিদায় নেই। সৌম্য-দা অবশ্য তার গাড়িতে করে দিয়ে আসতে চায়। "দোকান কাছে, হেঁটেই চলে যেতে পারবো", এ কথা বলে বেরিয়ে পড়ি। আধুনিক সিসিডির বাইরে এসে নি:শ্বাস নেই, সানগ্লাস বার করে চোখ ঢাকি - "আবার এরা ঘিরেছে মোর মন....আবার চোখে নামে আবরণ..." ।।
Monday, January 14, 2013
Subscribe to:
Posts (Atom)
