Friday, February 24, 2012

ডাইরির ছেঁড়া পাতা - ২০


আজ সকালে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মাঝে  বাসস্টপে যাচ্ছি যখন, আনমনে গুনগুন করে একটা গান গাইছিলাম. হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম - মনে হল আজ এমূহুর্তে এ গান কেন মনে এল? গানটি একটি বহু পুরোনো বাঙলা গান "এবার আমি আমার থেকে আমাকে বাদ দিয়ে অনেক কিছু জীবনে যোগ দিলাম....ছোট যত আপন ছিল বাহির করে দিয়ে ভুবনটারে আপন করে নিলাম"। ১৯৬১ সালে শ্রদ্ধেয় সলিল চৌধুরীর কথায় ও সুরে এ গান গেয়েছিলেন শচীন গুপ্ত। ১৯৮০তে যখন পুনরায় এ গান লতা মঙ্গেশকর রেকর্ড করেন, তখন আমি নিতান্তই ছোট এবং সেই প্রথম আমার রেডিওতে এ গান শোনা। সেইসময় একজনের গলাতেই সামনে থেকে আমি এ গান শুনি - এ কথা ভাবতে গিয়েই মনে পড়ল আজো অবধি এ গান রেকর্ডের বাইরে ওই একজনের গলাতেই শোনা আমার!

বুলুর ভালো নাম ইলোরা, তবে আমার ধারণা ছিল তার দিকে তাকিয়ে এ পৃথিবীর কেউই ইলোরা গুহার প্রাচীন স্থাপত্য-ভাস্কর্যের সৌন্দর্যের কথা মনে করবেন না! মানুষের মন যদি চোখে-মুখে ফুটে ওঠে ভাবা যায় - তবে বুলুর ক্ষেত্রে সেই কথা একশোভাগ বলা চলে। অন্যভাবে ভাবা যেতে পারে যে তার মত হিংসুটে এবং ঝগড়াটে মানুষ এ পৃথিবীতে দুর্লভ। তাই আমার কাছাকাছি বয়েস এবং আমাদের কোয়ার্টাসে তার বাস হলেও আমি তাকে এড়িয়ে চলতাম। যেটুকু মেলামেশা হত তা একটিমাত্র বিষয়কে কেন্দ্র করে - সেটা ছিল গান। বুলু কোথাও কখনো গান না শিখেও রেডিওতে শুনে শুনে গান তুলে ফেলত এবং  নিখুঁত পারদর্শীতায় সেগুলো গাইতে পারত।  

বুলুর দিদি অর্থাৎ টুলুদির ভালো নাম অজন্তা - বেশ ভালো নাচত সে। তখন এখনকার মত নাচের সাথে রেকর্ড করা গান বাজানোর রেওয়াজ ছিল না, উপরন্তু সেসব গান তেমন মিলতো ও না। তাই টুলুদির নাচের সাথে বহুসময় আমি গান গাইতাম। টুলুদির ব্যবহার ভারি চমৎকার ছিল, তাই মহড়া দেবার সময়গুলোতে ভালো ও লাগত। বুলুর মেজাজ ভালো থাকায় সে কয়েকবার টুলুদির নাচের সাথে গান গেয়েছিল, তবে দু-একবার নাচের অনুষ্ঠানের দিন দুয়েক আগে মেজাজ বিগড়ে যাওয়াতে সে গান গাইবেনা বলে দেওয়ায় আমাকে তাড়াহুড়ো করে গান তুলে টুলুদির নাচের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করে দিতে হয়েছিল।   

বুলুর সাথে আমার এবং আমার বয়েসীদের যে অমিলটা ছিল সেটা হল তার পরিণত গলার আওয়াজ এবং যে গানগুলো সে গাইতে পছন্দ করত। আমরা সব গাইতাম "বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে.... আয় না যা না গান শুনিয়ে" অথবা নাচের সাথে "শুকনো পাতার নূপুর পায়ে নাচিছে ঘূর্ণীর বায়" কিম্বা "খরবায়ু বয় বেগে চারিদিক ছায় মেঘে ওগো নেয়ে নাওখানি বাইয়ো"। এছাড়া ছিল প্রার্থনা-সঙ্গীত যেটা বেশীর‍ভাগ সময়েই ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত বা ব্রহ্মসঙ্গীত যেমন "বরিষধারা মাঝে শান্তির বারি" অথবা "নব আনন্দে জাগো আজি নব রবিকিরণে"। এসব গানের কথা সম্যকভাবে সেই বয়েসে উপলব্ধি করতে পারতাম না, তবে শান্ত পরিবেশে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে গাইছি ভেবে একটা ভাব-গম্ভীর আবেশ আসত মনে। 

এসব গান বুলুও গাইত তবে ও যখন গাইত "এ মন মোর জানিনা কোথা যে হারালো ঠিকানা না দিয়ে শরমে কাঁদিয়ে" অথবা "গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে বলো কি হবে....জীবনখাতার ছিন্নপাতা শুধু বেহিসাবে ভরে রবে" তখন সেসব গানের কথা আমার কাছে ভারি দুর্বোধ্য মনে হত। তবে বুলুর যত্ন করে সুর লাগানো, শব্দের উচ্চারণ সবকিছু মিলেমিশে পরিবেশে একটা মন-ছুঁয়ে যাওয়া সুরের আবেশ তৈরি করত। এসব গানের ভাষা বুলু বুঝে গাইত না কি না বুঝে - এ নিয়ে একটা কৌতূহল মনে থাকলেও কোনোদিন তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি - হয়ত আবার এটা নিয়েই কোনো ঝগড়া বাধিয়ে দেবে! 


 মজুমদারকাকু থাকতেন আমাদের সামনের কোয়ার্টারে। কাকুর "কৃষ্ণগোপাল" নামটা নিয়ে আমরা আড়ালে হাসাহাসি করলেও কাকুকে আমরা সবাই খুব পছন্দ করতাম। বাচ্চাদের সাথে হৈ চৈ এ মাততে কাকুর জুড়ি ছিল না। কাকিমার কাছে ছিল আমাদের যত বায়না আর আবদার অবশ্যই তাঁর সস্নেহ প্রশ্রয় পেয়ে। কাকু এবং কাকিমা দুজনেই ভালো গান গাইতেন, তাই কাকুর কোয়ার্টারে মাঝে মাঝেই গান-বাজনার আসর বসত। সে আসরে শ্রোতা বা শিল্পী হিসেবে বড়দের তুলনায় ছোটদেরই সংখ্যা হয়ে যেত বেশি। রবীন্দ্র বা নজরুল জয়ন্তীর মত উৎসবে মেতে জলসা ছাড়াও সামান্য কারণে বসে যেত আসর। যেমন বর্ষাকালে অঝোরে বৃষ্টি চলতে থাকত মাঝে মাঝেই, এমন বর্ষার কোনো বিকেল-সন্ধেয় কাকু-কাকিমার কোয়ার্টারের ভেতরদিকের টানা বারান্দায় বসে যেত নাচ-গান-বাজনা-আবৃত্তির আসর। কাকিমা অবশ্য রান্নাঘরেই ব্যস্ত থাকতেন আর আমাদের অফুরন্ত যোগান দিয়ে যেতেন আলুর চপ, পেঁয়াজী, বেগুনি। আমি ভালোবাসতাম চিংড়িমাছের চপ খেতে, সেকথা মনে রেখে কাকিমা সেটাও করে খাওয়াতেন।

 আমাদের এই গান-বাজনার আসরে বুলু তেমনটা আসত না। এর একটাই কারণ কাকু-কাকিমা তাকে সমাদর করে বসালেও একটু বাদেই আমাদের কারো না কারো সাথে তার ঝগড়া বেধে যেত কখনো কখনো‌ তুচ্ছ কারণেই। 

ঝাপসা মনে পড়ে এক বর্ষার বিকেলের কথা।টানা বৃষ্টি চলেছে কয়েকদিন ধরে। স্কুলে "রেনি-ডে"র দৌলতে একটা পুরোদিন ছুটি পেয়ে আমরা খুব খুশী। আমাদের দুটো কোয়ার্টার বিল্ডিং এর মাঝের সরু রাস্তাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা ঘোলা জলের পুকুর। বাবা গামবুট পরে বাজারে গিয়ে ইলিশমাছ এনেছেন, তা দিয়ে আমি বাদে আর সবার উৎসব। আমার জন্য অবশ্য এনেছেন কদমফুল। সেই ফুল বারেবারে নাকের কাছে এনে তার তীব্র গন্ধে আমি চেষ্টা করছি মাছের গন্ধকে ভুলে থাকতে। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া হয়ে গিয়েছে এমন সময় মজুমদারকাকুর আগমন। বিকেল থেকে তার বাড়িতে জমায়েত হতে বলার আমন্ত্রণ। 

 এ প্রসঙ্গে জানাই যে কাকুর বাড়িতে গানের জলসা বছরের যে সময়ে যে কারণেই বসুক না কেন, কাকিমা যদি গান গাইতে বসতেন তাহলে অবধারিতভাবে তিনি একটি গান গাইতেন-ই। সেটা রবি ঠাকুরের একটি গান - "দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি"। তাই হয়ত কাকিমার কথা ভাবতে বসলেই যে ছবিটা মনে আসে সেটা হল কাকিমা হারমোনিয়াম বাজিয়ে এই গানটা গাইছেন, পরনে হাল্কা গোলাপী রঙের জর্জেট শাড়িতে সাদা সুতোর কাজ, গলায় কানে রঙ মিলিয়ে ইমিটেশন গয়না - এখন যাকে বলা হয় কস্টিউম জুয়েলারী।


সেদিন যথারীতি কাকুর বাড়িতে জলসা শুরু। উঠোনে বৃষ্টি পড়া দেখতে দেখতে আমরা গান-বাজনা হৈ চৈ খাওয়া-দাওয়া সব করছি। সবাই গাইছে বৃষ্টির গান, পড়া হচ্ছে বৃষ্টি নিয়ে লেখা, কেউ বা আবৃত্তি করছে "তারি সঙ্গে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান"। এমন সময় বুলু জানাল যে সে এবারে গান গাইবে। আমরা একে অন্যকে গান গাওয়ার ফরমায়েশ করতাম, কেউ গাইতে না চাইলে তাকে জোর-জবরদস্তি করেও গাওয়াতাম। বুলুর প্রতি অমনটা করার সাহস আমাদের বেশিরভাগেরই ছিল না। বুলু সেবারে প্রথমে গোটা দুয়েক গান গাইল যা শোনা, তারপরেই ও গাইতে শুরু করল "এবার আমি আমার থেকে....."। আর কেউ সে গান আগে কখনো শুনেছিল কিনা জানিনা, আমি অন্তত প্রথমবার শুনলাম। আজো স্পষ্ট মনে পড়ে বাইরে বৃষ্টির শব্দের সাথে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে বুলুর সুর আর তাতে জড়ানো কথা "সবার হরষে হাসি বেদনে কাঁদি, বাঁধন-প্রিয়ারে মুক্তির জালে বাঁধি.....সবই হারায়ে আবার সবই কিছু যে পেলাম"। বুলু কি আজো পারে অমনভাবে গান গাইতে? কি জানি!

Wednesday, February 22, 2012


"ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— 
ছোটো সে তরী,  
আমারি সোনার ধানে 
গিয়েছে ভরি।
 
শ্রাবণগগন ঘিরে
  ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
  শূন্য নদীর তীরে
  রহিনু পড়ি—  
যাহা ছিল নিয়ে গেল 
   সোনার তরী।"

                                                               "সোনার তরী"/রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Monday, February 20, 2012

ক্ষণিকের জন্য


ধাপ্পাবাজী, মিথ্যেকথা আর অভিনয় -
   এসবের সাথে নিয়ন রঙ মিশিয়ে
       সাজানো জীবনটা নিয়ে বেশ চলছিল সে;
খড়কুটো দিয়ে বালিয়াড়িতে বাঁধা ঘর
    দমকা হাওয়ায় উড়ে যাবে জেনেও
        ঘর বাঁধার বিলাসে উচ্ছসিত সে;
ডানা-ভাঙা পাখি হয়ে নীলাকাশে
     ওড়ার ক্ষমতা নেই জেনেও
          প্রতিদিন আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখে সে;

আমার সঙ্গী বলে, "বেচারা!
দাও না তাকে তোমার কোমল হাত,
ভর দিয়ে দাঁড়াক সে";
আমি বলি, "আমার সাধ্য কি তাকে দাঁড় করাই!
মেরুদন্ড ভাঙা যে তার,
আমার হাতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো -
সে ও তো শুধু সেই ক্ষণিকের জন্যই"।
     

Friday, February 10, 2012














ড্যানি - পৃথিবীর বিজয়ী/রোয়াল্ড ডল
অনুবাদিকার নিবেদন:  যদিও গল্পটির পাঠক-পাঠিকার বয়:সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আট থেকে বারো বছর, তবে আমার ধারণা বয়েস বাড়লেও বহু মানুষের মনের অভ:ন্তরে লুকিয়ে থাকে সেই সবুজ ছোটবেলা - যার রঙবদল ও নেই, বিবর্ণ হওয়াও নেই। তাই এই গল্পের পাঠক-পাঠিকা সেইসব বড় বা বুড়ো মানুষরাও হয়ে যেতে পারেন নির্দ্বিধায়।


পেট্রল পাম্প (১)
আমার যখন চারমাস বয়েস, আমার মা হঠাৎ মারা যায় এবং আমার বাবা আমার দেখাশুনো করার কাজে  একদম একা হয়ে যায়। আমার কোনো ভাই-বোন ও ছিল না, কাজেই চারমাস বয়েসের পর থেকে আমার সমস্ত ছেলেবেলা জুড়ে ছিলাম শুধু আমি আর আমার বাবা। পেট্রল পাম্পের পেছনদিকে একটা পুরোনো জিপসী ক্যারাভানে আমরা থাকতাম। এই পেট্রল পাম্প, ক্যারাভান আর তার পেছনদিকের ছোট্ট ঘাসজমির মালিক ছিল আমার বাবা, সারা পৃথিবীতে স্রেফ এইটুকুই ছিল আমার বাবার নিজের বলতে সম্পত্তি। মাঠ আর বনে-ঘেরা পাহাড়ের মাঝে একটা সরু গ্রামের রাস্তায় ছিল এই পাম্পটা।

আমি যখন একটা ছোট্ট বাচ্চা, আমার বাবা আমাকে পরিস্কার করাত, খাওয়াত, জামা বদলে দিত - আরো কত কি হাজার একটা কাজ করত যেগুলো সচরাচর মায়েরাই করে থাকে তাদের বাচ্চাদের জন্য। একজন পুরুষমানুষের পক্ষে কাজগুলো মোটেও সহজসাধ্য ছিল না বিশেষত: তাকে যখন আবার মোটরগাড়ি মেরামত করে, পেট্রলপাম্পে আসা লোকজনকে পেট্রল বিক্রি করে সংসার ও চালাতে হচ্ছে। তবে আমার বাবা কিন্তু এতে কিছুই মনে করত না। আমার মনে হয় - মায়ের প্রতি তার সব ভালোবাসা সে উজাড় করে আমায় দিয়ে দিয়েছিল। ছোটবেলায় তাই একবারের জন্য ও আমার শরীর ও মন কিচ্ছু কখনোই খারাপ হয়নি!

তাই আমার পাঁচ বছরের জন্মদিনে আমি ছিলাম একটা ছোট্ট ছেলে যার সারা শরীর জুড়ে গাড়ির তেলকালি-মাখা। এর কারণ হল সারাদিন ধরে আমি আমার বাবাকে সাহায্য করি গাড়ি মেরামত করতে।

পেট্রল পাম্পে মাত্র দুটো পাম্প, আর সেই পাম্পগুলোর পেছনে একটা কাঠের ছাউনি-দেওয়া ঘর যেটা বাবার অফিস। অফিসে একটা পুরোনো টেবিল আর একটা ক্যাশবাক্স ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। এই ক্যাশবাক্সটায় একটা বোতাম টিপলে ঘন্টা বাজে, আর ড্রয়ারটা দুম করে ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে। আমার এটা দারুণ লাগত। অফিসের ডানদিকে চৌকো ইঁটের বাড়িটা ছিল বাবার কারখানা। বাবা খুব যত্ন করে এটা তৈরি করেছিল, ওখানে ওটাই ছিল একমাত্র মজবুত জিনিষ।

"তুই আর আমি - আমরা দুজনেই হলাম ইনজিনিয়ার", বাবা প্রায়ই বলত আমায়, "ইনজিন মেরামত করে আমরা টাকা রোজগার করি কাজেই কারখানাটা ভাঙ্গাচোরা  হলে তো আর আমরা ভালোভাবে কাজ করতে পারবনা।" কারখানাটা কিন্তু বেশ ছিল, একটা গাড়ি রাখার মত বড় জায়গা ছাড়াও পাশে বসে-শুয়ে-দাঁড়িয়ে মেরামত করার মত অনেকটা জায়গা ছিল। ভেতরে একটা টেলিফোন ও ছিল যেটাতে লোকজন ফোন করে তাদের গাড়ি নিয়ে আসত।

আমাদের ঘর-বাড়ি বলতে সবকিছুই ছিল ওই ক্যারাভানটা। এটা সত্যিই একটা বড় বড় চাকাওয়ালা পুরোনো জিপসীদের গাড়ি যার গায়ে খুব সুন্দর ছবি আঁকা। বাবা বলত এটার বয়েস অন্ততপক্ষে দেড়শো বছর। এর কাঠের চার দেওয়ালের ভেতরে অনেক জিপসী বাচ্চা জন্মেছে, বড় হয়েছে। ঘোড়ায়-টানা এই জিপসী গাড়িটা নিশ্চই হাজার হাজার মাইল ঘুরে বেড়িয়েছিল একটা সময়ে। এখন এটার ঘোরা শেষ কারণ এর কাঠের চাকাগুলো পচতে শুরু করেছে। বাবা তাই গাড়িটার নিচে ইঁট সাজিয়ে এটাকে খাড়া করে রেখেছিল।

ক্যারাভানে মাত্র একটা ঘর - সেটা অবশ্য আধুনিক বাথরুমের তুলনায় তেমন কিছু বড় নয়। ক্যারাভানের যেমন আকার তেমনভাবেই ঘরটাও ছিল বেশ সরুমত। পেছনদিকের দেওয়াল-ঘেঁষে রাখা দুটো বাঙ্কবেড - একটার উপরে আর একটা, নিচেরটা আমার আর উপরেরটা বাবার।